ভালোবাসার রাতে পরীর বাগদান

শামছুল হক রাসেল | ১৬ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 968 বার

শনিবার রাতে হঠাৎ করে চাঁদপুরের একটি গেস্ট হাউসের সামনে গাড়ি এসে থামে। দরজা খুলে বের হন সুদর্শন এক যুবক। সঙ্গে একটি ফুলের তোড়া ও রিং-বক্স। গেস্ট হাউসের ভিতরে রয়েছেন অভিনেত্রী পরীমণি ও শুটিং স্পটের কিছু লোক। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ ছবির শুটিং করতে পরীমণি এখন চাঁদপুরেই অবস্থান করছেন। যুবকটি সোজা গিয়ে উপস্থিত হন হালের আলোচিত এ অভিনেত্রীর সামনে। এরপর যা ঘটল তা বুঝে উঠতে উপস্থিত সবাইকে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ঘোষণা দেওয়া হলো পরী ও সেই যুবকের বাগদানের বিষয়টি। একে অন্যের অনামিকায় পরিয়ে দিলেন আংটি। শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন তারা। এটি পর্দা বা শুটিংয়ের কোনো ঘটনা নয় একেবারেই বাস্তব ঘটনা। অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে বাগদান সারলেন পরীমণি।

ভালোবাসা দিবসকে অনেকেই স্মরণীয় করে রাখতে চান। কেউ চান ভালোবাসার মানুষটির কাছে নিজেকে সঁপে দিতে। কেউবা আবার শুরু করেন পাশাপাশি পথ চলতে। এ ধারাবাহিকতায় এবার একসঙ্গে জীবনপথে পাড়ি দেওয়ার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সারলেন পরীমণি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে পরীমণি বলেন, ‘আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কি করে কি হয়ে গেল। ভালোবাসা আসলেই এক আজব জিনিস। যা বলে বোঝানো যাবে না। এটি একটি আবেগীয় বিষয়। এতদিন পর্দায় বুঝেছি। এবার বাস্তবে অনুধাবন করলাম। তাইতো সারলাম বাগদান।’

এত তাড়াহুড়া কেন জানতে চাইলে পরীমণি বলেন, ‘ভাই রে, ঐ যে বললাম এটা এক আজব জিনিস। মন থেকে সাড়া পেলাম, তাই হয়ে গেল। তাছাড়া ভালোবাসা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত। এর চেয়ে ভালো দিবস আর নেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে।’

পাত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে স্মিত হেসে পরীমণি বলেন, ‘এ বিষয়টা না হয় একটু রহস্যেই থেকে যাক। শিগগির ঘটা করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। নিমন্ত্রণে এসে জেনে নিবেন।  দেখে নিবেন আমার হবু বরকে। তবে এতটুকু আশ্বস্ত করতে পারি, পাত্র মিডিয়ার কেউ নন। ‘র’ আদ্যাক্ষরের আমার হবু বর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেখতে শুনতেও কোনো অংশে কম নয়। সবচেয়ে মজার বিষয় আমি রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। যার নামের আদ্যাক্ষর ‘র’ আর আমার হবু বরের আদ্যাক্ষরও ‘র’। প্রায় চার মাস যাবৎ তার সঙ্গে পরিচয়। ইতিমধ্যে আমরা একে অপরকে বুঝতে চেষ্টা করেছি। দেখিয়েছি প্যাশন। ব্যাটে বলে মিলে যাওয়াতে বাগদানটা হয়ে গেল।’

পরীমণি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরও বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে আমার অনামিকায় আংটি আর গলায় নেকলেস জড়িয়ে দেয় সে। এটা এক স্বর্গীয় অনুভূতি। তখন বুঝতে পারলাম ভালোবাসা আসলেই তুলনাহীন। আমিও তার অনামিকায় বাগদানের চিহ্ন এঁকে দেই। অর্থাৎ পরিয়ে দেই আংটি। বাগদান সারলেও  বরমালা পরাব কমপক্ষে তিন বছর পর।’

অভিনয়ের এই ভাইটাল সময়ে এ সিদ্ধান্ত ক্যারিয়ার দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়বেন কিনা জানতে চাইলে পরীমণি বলেন, ‘না রে ভাই, আমার ক্ষেত্রে এটা হবে উল্টো। অভিনয় জীবন আরও ত্বরান্বিত হবে। এখন সাপোর্ট দেওয়ার আরও একজন মানুষ পেলাম। লাইফ পার্টনারের সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছি। তার ইচ্ছা আমি যেন এদেশের শীর্ষ নায়িকাদের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারি। কখনো অভিনয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছে সে। ক্যারিয়ার নিয়ে সে আমার চেয়ে বেশি উৎসাহী। এগিয়ে যেতে চাই ক্যারিয়ার ও লাইফ পার্টনারকে নিয়ে। এখন সবার দোয়া চাই।’

গত বছর ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন পরীমণি। এ পর্যন্ত সাতটি ছবি মুক্তি পেয়েছে তার। পর্দায় উঠতে দরজায় কড়া নাড়ছে আরও কয়েকটি ছবি। শুটিং চলছে বেশ কয়েকটির। বর্তমানে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের স্বপ্নজাল ছবিতে অভিনয়ের জন্য চাঁদপুরে রয়েছেন পরী। টানা এক মাস শুটিং চলবে সেখানে।

মন্তব্য করতে পারেন এখানে...

আরও লেখা

সব লেখা